posnews.xyz

অলস ব্যাক্তিরাই নিয়মের উপর নির্ভরশীল

কোনো একটা নিয়ম তৈরি হলে সেই নিয়ম সম্পর্কে মানুষ জানে শুধুমাত্র এটা বোঝার জন্য যে, কখন নিয়মটা ভাঙা যাবে। প্রতিটা নিয়মই তৈরি হয় নিয়ম ভাঙার কিছু সূক্ষ উপায় হাতে রেখে।
আপনারা বিমান চলাচল সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা রাখেন এমন সবাই একটা নিয়ম জানেন যে, ইরানিয়ান স্পেসে বিমান চলাচল নিষেধ, ঢুকলেই শাস্তি। একবার একটা বিমান KC- ১৩৫ ভুল করে এই স্পেসে চলে আসে। তাকে জরিমানা করা হয় সভাবিকভাবেই। কিন্তু এর কিছুদিন পরে আরেকটা এয়ার ক্রাফট পাস দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করলো তাদের গ্যাস ফুরিয়ে আসছে। আরো গ্যাস না হলে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। মাঝখানে এই ইরানিয়ান স্পেস ছাড়া আর কোনো সুযোগ নেই। সে তৎক্ষণাৎ, ইরানিয়ান স্পেস এ ঢুকে পড়লো, গ্যাস নিল, পে করলো এবং চলে গেলো। তাদের কোনো শাস্তি হলো না।  
প্রথম ঘটনাটা ছিল ভুল ক্রমে ঘটে যাওয়া। আর পরেরটা ইচ্ছাকৃত। কাজেই শাস্তি হলে দ্বিতীয় টার হওয়া উচিৎ ছিল, প্রথমটার নয়। কিন্তু হল উল্টোটা। কেনো জানেন? কারণ প্রথম প্লেনের পাইলট ইডিয়ট, ও জানত না কখন এই নিয়ম ভাঙা যাবে। অপরদিকে দ্বিতীয় জন সব জেনে বুঝে নিয়ম ভেঙেছিল কারণ ও নিয়ম এবং তা ভাঙার সুযোগটা জানতো। 
আপনার কোম্পানীর কোনো কর্মী পরপর ৩ দিন আসতে লেট করলে আপনি তাকে ক্লোজ করে দেন কেননা এটা আপনার কোম্পানীর নিয়ম। কিন্তু আগে দেখেন সে কেনো পরপর ৩ দিন লেট করলো। সে কি অফিস থেকে অনেক দূরে বসবাস করে? সে কি প্রতিদিনই বাস ধরার জন্য কয়েক মেইল হাটে?  সে কি অসুস্থ কিন্তু তারপরেও টাকা কাটা জাওয়ার ভয়ে অফিস করছে? সে কি রাতে নাইট ক্লাবে গেছিল নাকি তার বাচ্চাকে সকালে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে লেট করেছে? সে কে তার মায়ের যত্ন করতে গিয়ে লেট করছে নাকি বন্ধুদের সাথে আড্ডায়?
এগুলোর যেকোন টাই হতে পারে। কিন্তু আপনি আজ-পাছ না ভেবেই তাকে ক্লোজ করে দিতে পারেন না। কারণ কনটেক্সট ম্যাটার্স। তার কারণটা শুনুন, বিবেচনা করুন, তাকে জিজ্ঞেস করুন সে শিফট চেঞ্জ করতে চায় কিনা। কেননা একজন ইচ্ছাকৃতভাবে লেট করতে পারে আর আরেকজনের সত্যিই কোনো শক্ত কারণ থাকতে পারে।  দুইজনই একই শাস্তি পেতে পারে না। দুজনকে দুইভাবে দেখুন, শুধুমাত্র নিয়মের উপর শক্তভাবে বসে থাকবেন না। 

Leave a Reply

Positivity
%d bloggers like this: