posnews.xyz

এই Digital Skill গুলো আপনার থাকা উচিৎ

এই একবিংশ শতাব্দীতে আপনি যদি এসে বলেন যে, আপনার একজন কম্পিউটার এনালিস্ট আছে তাই আপনার কম্পিউটার জানার দরকার নাই তবে আপনি বেশিদূর এগোতে পারবেন। বেসিকটা আপনাকে জানতেই। বুয়েটের শিক্ষক এবং আমার খুব প্রিয় এক ব্যক্তিত্ব এনায়েত চৌধুরী এসব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। তিনি ফোরবস এবং হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ থেকে বিভিন্ন গবেষণাপত্র নিয়ে পড়াশোনা করে Digital Skill এর ধারনা, একুশ শতকে এর গুরুত্ব, কোন স্কিলগুলো বেশী দরকার, আইওটি কি এবং বাংলদেশের ক্ষেত্রে ব্যপারটা এখন কেমন সেগুলো নিয়ে ধারনা দিয়েছেন। আসুন জেনে নেই তার গবেষণা-  

প্রথমেই আমাদের জানা দরকার হার্ড স্কিল এবং সফট স্কিল কি। হার্ড স্কিল হল হার্ডকোর এনালিটিকাল অ্যাবিলিটি। মানে আপনি কোন বিষয়ে দক্ষ হলে বা অ্যাপ তৈরি করতে পারলে তাকে হার্ড স্কিল বলে। অপরদিকে সফট স্কিল বলতে বোঝায় আপনি যদি কোন একটা পরিস্থিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অর্থাৎ, অভিযোজন ক্ষমতা।

আরো পড়ুনঃ Content Creator-দের জন্য খালিদ ফারহানের পরামর্শ

উপমহাদীশীয় স্কিল বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে গ্রাফিক্স ডিজাইন। এটার চাহিদাও অনেক। কালার থেওরি, থাম্বনিল তৈরি সব খানেই এটা লাগে।

এরপরই লাগে মাইক্রোসফট  অফিস। আপনাকে অবশ্যই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেল, অ্যাক্সেস এগুলো সম্পর্কে জানতেই হবে। আগে আপনি এক্সেল ব্যবহার করলেও এখন আক্সেসটা জানা জরুরি কেননা এটা আরো উপডেটেড। কোন একটা প্রজেক্ট এর ক্ষেত্রে আপনাকে মাইক্রোসফট প্রজেক্ট সম্পর্কে জানতে হবে, ম্যানেজ করা শিখতে হবে।

তিন নাম্বারে যেটা লাগে তা হল ফটো এডিটিং। যেকোন ছবি বা ভিডিও করার পর সেগুলো এডিট করা লাগে। এটা দারুন এক দক্ষতা। এই রিলেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার শিখতে হবে। নিজের এডিটিং ফিলসফি থাকতে হবে এখানে দক্ষ হতে হলে শুধুমাত্র টিউটোরিয়াল দেখে কাজ জানলেই চলবে না।

চার নাম্বারে আছে কন্টেন্ট রাইটীং এবং পাঁচে থাকবে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট। বাংলাদেশে যদিও এখনো এই বিষয়টা এতটা পপুলার হয় নাই কিন্তু বাইরের দেশে দেখবেন যেকোন প্রতিষ্ঠানেরই সুন্দর ওয়েবসাইট থাকে। আমাদের দেশেও এটা দ্রুতই পপুলারিটি পাবে বলে আশা করছি। কেননা অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য এটা খুবই দরকারি। এই স্কিলগুলো আপনাকে অনেকের থেকে এগিয়ে রাখবে।

এরপরে থাকবে ডাটা সাইন্স। এটা অনেক চাহিদা পাবে এখন কেননা আমাদের হাতে এখন অনেক ডাটা জা আনাল্যসিস করে অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এই ক্ষেত্রে  Python, R, Microsoft Excel, MATLAB, SPSS এই পাচটা সফটওয়্যার খুবই ব্যবহার হয়।

ডাটা সাইন্সের পর আমার কাছে মনে হয় ম্যাপিং ডাটা ম্যনেজমেন্ট খুবই ইম্পরট্যান্ট। একটা ম্যাপ থেকে ডাটা এক্সট্রাক্ট করা বা ডাটা থেকে ম্যাপ তৈরি করা খুব দরকারি কাজ এখন। এই জন্য ArcGIS, QGIS অনেক বেশী ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে QGIS ফ্রি। এই সফটওয়্যার দুইটি আয়ত্ত করতে পারলে আপনি অনেক যায়গায় প্রাধান্য পাবেন। 

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ সরকারের তৈরি সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপগুলো

এবার একটু বড় দৃষ্টিকোন থেকে দেখি যে এই একবিংশ শতাব্দীতে কোন কোন জব অনেক বেশী  ইম্পরট্যান্ট হতে যাচ্ছে তাহলে দেখবেন সাইবার সিকিউরিটি, মেশিন লার্নিং বা অটোমেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ইন্টারনেট অফ থিংগস (IoT) খুব এগিয়ে। 

ইন্টারনেট অফ থিংগস (IoT) কে কাজে লাগিয়ে অনেক ধরনের কাজ করা যায়। যেমন মনে করুন কোন একটা নদিতে পানি দূষণ কিন্তু সবসময় সমান থাকে না। বিভিন্ন কারনে সেটার পরিমান ওঠা নামা করে। এই অবস্থায় যদি ঐ নদির পানি নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং রিয়েল টাইমে সেটার রেজাল্ট দেখা হয় তবে বোঝা যাবে ঐ নদির পানি কোন দিন বা কন সময় বশি দুষিত থাকে, সেখানে ব্যক্টেরিয়ার পরিমান কত বা অন্যান্য দূষণের পরিমান কেমন। তাহলে এটার পরিমান দেখে মানুষ বুঝতে পারবে কখন ঐ নদির পানি ব্যবহার করা যাবে এবং কখন যাবে না। এটা সম্ভব শুধুমাত্র ইন্টারনেট অফ থিংগস এর ফলে। IoT তে মুলত  বস্তুগত উপাদানগুলো সব প্রোব বা অন্যান্য মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড থাকে এবং রিয়েল টাইমে ডাটা পাওয়া যায়। এটার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এমনকি বাংলাদেশেও এটার প্রয়োগ খুব দ্রুতই আমরা অনেক বেশি পরিমাণে দেখতে পাব বলে আশা করছি। তাই এই যোগ্যতা আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে।  

এখন আসুন সফট স্কিল নিয়ে কথা বলি। সফট স্কিল এখন অনেক দরকার। এখন আপনাকে কেউ সরাসরি বলবে না যে মাক্রসফট ওয়ার্ড শিখে আসো। এখন আপনাকে বলবে কমিউনিকেশন করতে, কোলাবরেশন করো। অনেকেই অনেক ভাল কাজ পারে মানে হার্ড স্কিল অনেক ভাল কিন্তু সে নিজে যা বঝে সেটা অন্যকে বোঝাতে পারে না, বা টিম ওয়ার্ক বোঝে না। তাহলে তার হার্ড স্কিল অনেক ভাল হলেও সে বেশিদুর এগোতে পারবে না শুধুমাত্র সফট স্কিল এর অভাবে। 

সৃজনশীলতা অনেক বেশী দরকারি সফট স্কিল। যেমন ধরুন আপনি একটা ডিভাইস বের করলেন কিন্তু সেই ডিভাইস টা অন্যরা সহজেই ব্যবহার করতে পারবে কিনা, তারা কি কি সমস্যা ফেস করতে পারে, সেগুলো কিভাবে সমাধান করা যায় এই চিন্তা গুলো আপনার মাথায় থাকলে বলা যাবে আপনি সৃজনশীল। 

চার নাম্বার সফট স্কিল হল ক্রিটিকাল থিঙ্কিং। যেমন ধরুন আপনি একটা ডীভাইস তৈরি করলেন কিন্তু সেখানে কোন অপ্রয়োজনীয় বিষয় আছে কিনা, কোন দরকারি বিষয় বাদ পড়ল কিনা এসব চিন্তা করতে হবে। এতাকে প্রব্লেম সল্ভিংও বলা যায়। অর্থাৎ এমন সব চিন্তা করতে হবে যাতে করে আপনার ডিভাইস চুরি না হয়, কেউ হ্যাক না করতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ৫ পদার্থবিদ

এবার আসুন একটু জানি কেন আমাদের ডিজিটাল স্কিল থাকা দরকার। একটা জাতি এই ডিজিটাল যুগে যদি নিজেদেরকে সয়াব্র সারথে আপডেট করতে না পারে তবে পিছিয়ে পড়বে সবার থেকে। ইংল্যান্ডে একটা সময় ইয়ং জেনেরারশন আইটি বিষয়ে অনেক অনাগ্রহ দেখিয়েছিল যার ফলাফল ওরা টের পেয়েছে করোনার সময়। কেননা তখন অনেক আইটি বিশেষজ্ঞদেরকে ওরা বাইরে থেকে হায়ার করে নিচে এবং অনেক টাকা খরচ হইছে। অভারঅল সমগ্র জাতির মধ্যে ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপ হইলেই জাতিকে ডিজিটাল করা যায় শুধুমাত্র কয়েকজন এই বিষয়ে অভিজ্ঞ হলেই চলে না। 

বাংলাদেশের ডিজিটাল স্কিল এর কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে অফলাইন জনগনের কথা যারা এখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করে না। এদের সংখ্যা অনেক বেশী বেষী ৯৭ মিলিয়নেরও বেশী। এই এত সংখ্যক মানুষকে ইন্তারনেট থেকে বঞ্ছিত রেখে জাতিগতভাবে দেশকে ডিজিটাল করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার যে ইন্টারনেট পৌছিয়ে দিচ্ছে সেটা খুব কার্যকারী হতে পারে। এক্ষেত্রে ইলেক্ট্রিসিটিও অনেক বড় প্রভাবক।  

এবার ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখি। বাংলাদেশ কিন্তু অনলাইন লেবার সাপ্লাই এর ক্ষেত্রে পৃথিবীতে দ্বিতীয় তার মানে এখানে শহর অঞ্চলে অনেক দক্ষ ডিজিটাল স্কিলফুল মানুষ আছে। এখন চিন্তা করুন যদি ঐ ৯৭ মিলিয়ন মানুষকেও যদি ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া যায় এবং আরো কিছু মানুষকে ডিজিটাল স্কিল্ড করা যায় তবেই আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।  

Follow us on Facebook. 

2 thoughts on “এই Digital Skill গুলো আপনার থাকা উচিৎ

  1. These skills are really needed for everyone. But unfortunately the young generation doesn’t feel so.

Leave a Reply

Positivity
%d bloggers like this: