posnews.xyz

ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে কথা বলার কি কেউ নেই?

বাংলাদেশ স্কুল প্রতিষ্ঠান কবে খুলতে পারে সেই তথ্য কেই বা জানে? 2020 সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে করোনার প্রভাব বিস্তার করে এবং সেখান থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত করোনা বিদ্যমান। তবে সব থেকে ভালো বিষয় হলো বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মৃত্যুর সংখ্যার যদি হিসাব করি তাহলে খুবই কম। কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি মোটামুটি অনেক। আর যে হিসাবটা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হিসাব। এই কঠিন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কি অবস্থা হয়েছে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক, মানসিক অবস্থার কি পরিবর্তন হয়েছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এগুলো দেখার মত কি কেউ নাই?

এই তো আজকেই একটা লাইভ  দেখলাম যেখানে আমাদের চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুরমশাই ফেসবুক লাইভে এসে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল হাতে নিয়ে মাথায় গুলি করে এপাশ থেকে ওপাশ ছিদ্র করে ফেলেন এবং ফেসবুক লাইভে মৃত্যুবরণ করেন। আর তার মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ ছিল তার হতাশা। তাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দেয়ার মত কেউ ছিলনা। তিনি তার মৃত্যুর আগে তার পরিবারকে দায়ী করে গিয়েছেন, তার পরিবারের অবহেলাকে দায়ী করে গেছেন।

অর্থাৎ আপনার মানসিক সাপোর্ট এর অভাবের কারণে আপনি নিজেই নিজেকে শেষ করে দিতে যাবেন- এটা মানুষের একটা সহজাত বৈশিষ্ট্য। মানুষ একটু আসা চায়, মানুষ একটু ভালোবাসা চায়, মানুষ ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বর্তমানের কষ্টকে মেনে নেয়। একবার চিন্তা করে দেখুন তো আপনার যে বন্ধুটি আপনার সাথে পড়াশোনা করছে, টিউশনি করে দিন পার করছে, তার অভাব অনটনে থাকা সংসারটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, তার ভাই-বোন ভাইবোনের পড়াশোনার ব্যবস্থা করছে ,তার ছোট বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করেছে, সেই ছেলেটির যদি টিউশনি না থাকে তাহলে কি করবে?

Read more: সম্ভবনাময় এক দেশ, বাংলাদেশ
কিছু না জেনেও ভাব নেওয়া কখনোই ভাল নয়

এটা তো গেল শুধুমাত্র একটা মানবিক দিক যে, দিকটা সবাই দেখতে পায় যে টিউশনির অভাবে একজন ছাত্র তার পরিবারকে সাপোর্ট দিতে পারছেনা কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখুন তো এই যে দুই বছরের বেশি হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে কিন্তু কেন? বাংলাদেশে কি মৃত্যুর হার খুব বেশি? অন্য দেশের তুলনায় খুবই কম। বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় এই মৃত্যুসংখ্যা আসলেই কম। করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা যদি আপনি হিসাব করেন আর বাংলাদেশ প্রতিদিন রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা হিসাব করেন তাহলে দেখবেন রাস্তাঘাটের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। কিন্তু হায় আমাদের সরকার যে রাস্তাঘাট বন্ধের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য সদা প্রস্তুত থাকছে; কিন্তু কেন?

আর  যে  দুই বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে এই বন্ধের সময় ঝরে পড়ছে কত শিশু তার হিসাব রাখে কেউ? কি জানে যে এই দুই বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি খোলা থাকতো তাহলে আমাদের আরো কিছু শিক্ষার্থী তাদের গবেষণার দ্বারা বাংলাদেশকে আরো বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো? অনলাইনের মাধ্যমে পুরো কার্যকরভাবে  শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা যেত এবং ফিজিক্যাল ডিসটেন্স বজায় রেখে পরীক্ষাগুলোও নেয়া যেত। এতে এই শিক্ষার্থী গুলো মানসিক হতাশা ভোগ করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিত না। এবং তাদের ভেতরে এক ধরনের মানসিক শক্তি তৈরি হতো, তারা নিজেদেরকে আরো বেশি ডেভলপড করতে পারতো।

এবার দেখুন এই দুই বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কিন্তু বিভিন্ন সরকারি চাকরির বয়সসীমা 30 বছর রয়েই গেছে। এই দুই বছরে যাদের বয়স 28 থেকে লাফ দিয়ে ত্রিশ পেরিয়ে গেল যারা চাকরি করতে পারবে না, সরকারি চাকরির আবেদন করতে পারবে না, তাদের হতাশার গ্লানি নিয়ে সারা জীবন বেঁচে থাকতে হবে। এই হিসাবটা কে দিবে?

আমাদের সরকার বর্তমানে ব্যস্ত আছে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে, তাদের সঙ্গে আবার সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ।পাশাপাশি ভারত এবং চীনের সাথে একসাথে কাজ করতে। আর আমাদের বিরোধী দলগুলো আছে সরকারের নামে, দেশের নামে, রাষ্ট্রের নামে অপপ্রচার চালাতে ব্যস্ত। কিন্তু এই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কথা কে বলবে? তাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাদেরকে নেতৃত্ব দিবে কে? তাদের অধিকার গুলো আদায় করার জন্য, তাদের এই হারিয়ে যাওয়া দুই বছরের হিসাব রাষ্ট্র যেন কড়ায় গণ্ডায় দেয় এ কথা কে বলবে?

আমাদের এখন দরকার প্রফেসর শামসুজ্জোহার মত কিছু শিক্ষক যারা ছাত্রদের সামনে থেকে  সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে, সরকারের কাছ থেকে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, নিজের বুকে গুলিবিদ্ধ  হলেও ছাত্রদের অধিকার আদায় না করে ঘরে ফিরবে না।কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। দুর্ভাগ্য এই জাতির। সেই শামসুজ্জোহার মত শিক্ষক আর নেই। সবগুলো জাফর স্যারের মত পা চাটা গোলাম হয়ে গেছে, যারা সরকারের একান্ত নিজস্ব লোক হিসেবে পরিচিত এবং সেভাবেই তারা প্রচারণা চালায়, যারা ছাত্রদের আন্দোলন করতে বাধা দেয়, যারা ছাত্রদের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। ছাত্রদের পক্ষে নয়, সরকারের পক্ষে তারা কাজ চালিয়ে যায়।

তাহলে আমাদের এই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলবে কে ?এই দুই বছর হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সান্তনা দিবে, তাদের অধিকার আদায়ের নেতৃত্ব দিবে, রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকার আদায় করতে সরকারকে বাধ্য করবে?

Follow us on Facebook. 

Leave a Reply

Positivity
%d bloggers like this: